মঙ্গল অভিযানের জন্য মহাকাশের জঞ্জাল ব্যবহারের চিন্তা

0

প্রায় ছয় দশকের মহাকাশ অনুসন্ধানে পৃথিবীর  চারপাশে কক্ষপথে প্রচুর ধ্বংসাবশেষের একটি শৃংখল তৈরী হয়েছে।  এসবের আকার একেকটা রংযের ছোট ফোটা থেকে শুরু করে জ্বালানী ফুরিয়ে যাওয়া বিশালাকার কৃত্রিম উপগ্রহের মতো।

নাসা অনুমান করছে পৃথিবীর আশেপাশে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন টুকরো ছড়িয়ে রয়েছে যা মাঝেমাঝেই আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন এবং কৃত্রিম উপগ্রহের জন্য হুমকির সৃষ্টি করে। অতীতেও এদের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

মহাকাশের জঞ্জাল একটি সুপরিচিত সমস্যা হওয়ায় এর মোকাবেলা করার ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ কারণেই ফায়ারফ্লাই স্পেস সিস্টেম কোম্পানীর সিইও টম মার্কুইস কিছু অকেজো উপগ্রহকে রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

মঙ্গল গ্রহে উপনিবেশ তৈরীতে যেসকল নাট, বোল্ট এবং ইলেক্ট্রনিক যন্ত্রপাতির প্রয়োজন পড়বে, মার্কুইসের প্রস্তাবনা অনুযায়ী পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে এসব উপকরণ বয়ে নেয়ার জন্য মৃত উপগ্রহগুলোকে মহাকাশ-যান নৌকা হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তিনি অনুমান করেন মহাকাশে ইতিমধ্যে প্রায় কয়েকশ মৃত উপগ্রহ রয়েছে যেগুলো এসব কাজে ব্যবহারের উপযোগী। যেহেতু এসব আবর্জনা উপাদান মহাকাশেই রয়েছে তাই পৃথিবী থেকে নতুন করে আর উড্ডয়ন করার প্রয়োজন পড়বেনা এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে উড্ডয়ন করার জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হবেনা।

মার্কুইস সিকারকে বলেন, “আমাদের পাথফাইন্ডার মিশনে হার্ডওয়্যার পদ্ধতিতে এরা  একত্রিত হয়ে নতুন করে সক্রিয় হতে পারবে যা মঙ্গল অভিযানের জন্য প্রয়োজন পড়বে।” এই প্রক্রিয়াকে তিনি লেগোর একটি ব্লককে আরেকটির সাথে জোড়া লাগিয়ে  একত্রিত করার সাথে তুলনা করেন।

মঙ্গল গ্রহ এবং এর দুটি চাঁদ ফোবোস এবং ডিমোস অবস্থান। ছবি- নাসা

মঙ্গল গ্রহ এবং এর দুটি চাঁদ ফোবোস এবং ডিমোস অবস্থান। ছবি- নাসা

তবে প্রশ্ন হচ্ছে এই পরিকল্পনার জন্য কে অর্থ দিতে রাজি হবে? এমন অনেক কোম্পানি রয়েছে যারা মহাকাশের এসব আবর্জনা মোকাবেলার প্রস্তাব করেছেন। যেহেতু এসব নিয়ে তাৎক্ষনিক কোন হুমকি নেই তাই সবসময় এর জন্য তহবিল খোঁজা অনেক সমস্যা।

সারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো গবেষক জেমস ফরসো বলেন, “মহাকাশের জঞ্জাল সমস্যাটি অনেকটা গ্লোবাল ওয়ারর্মিং এর মতো যার জন্য সরকারকে রাজি করানো খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার।” জেমস যুক্তজ্যের  RemoveDEBRIS মিশনের সাথে কাজ করছেন যা সামনের বছর ISS থেকে লঞ্চ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি মহাকাশে পাইপ, জালসহ অন্যান্য বস্তুর ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পরীক্ষা চালাবে।

DARPA’র  নতুন রোবোটিক্স সার্ভিসিং অফ জিওসিংক্রোনাস স্যাটালাইট  (RSGS) প্রোগ্রাম ২০২১ সালের শুরুর দিকেই মহাকাশে উড্ডয়ন করবে যা একটি রোবোটিক মহাকাশ-যানের সাহায্যে মৃত উপগ্রহগুলোকে সারিয়ে  তুলতে সক্ষম হবে। এটা নির্দিষ্ট পরিসীমার মাঝে উপগ্রহকে খুব কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করবে এবং এর নিকটবর্তী কক্ষপথের দিকে এদের নিয়ে যাবে অথবা এদের মাঝে এমন সেন্সর লাগাবে যাতে উপগ্রহগুলো নতুন কর প্রাণ ফিরে পাবে।

জেমস এক ইমেইলে বলেন, “মহাকাশ যে আমাদের পৃথিবীর পরিবেশেরই একটি অংশ সে ব্যাপারে আমরা সচেতনতা বৃদ্ধি করা চেষ্টা করছি এবং অবশ্যই একে পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। এ কাজে আমরা যতো দেরী করবো এর অবস্থা ততই খারাপ হতে থাকবে।” আন্তঃসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এর দায়িত্ব বহনের পরামর্শও দেন তিনি। তাঁর মতে মহাকাশের প্রায় ৭০০ টন জঞ্জাল পরিষ্কারের জন্য অবশ্যই কোন না কোন প্রযুক্তি খুঁজে নিতে হবে আমাদের।

মার্কুইস জানিয়েছেন, তিনি সরকারের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তারা অবশ্যই এসব ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করতে আগ্রহী হবে।

মহাকাশের জঞ্জাল পরিষ্কারে লেজার ব্যাবহারঃ

[সিকার অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম

Share.

মন্তব্য করুন