নাকের দুটি ছিদ্রের প্রয়োজন কী?

0

দুটি চোখ আমাদের খুবই প্রয়োজন ত্রিমাত্রিক স্থানের এবং দূরত্বের ধারনা পাওয়ার জন্য। দুটি কানও প্রয়োজন শব্দের উৎস সম্বন্ধে ধারনা পাওয়ার জন্য কিন্তু নাকের দুটি ছিদ্রের প্রয়োজন কি? না, দু’টি ছিদ্রের মাধ্যমে গন্ধের উৎস সম্বন্ধে জানার বেশী সুযোগ নেই। কারন গন্ধ তৈরি হয় কোন বস্তুর অণু যখন ঘ্রানেন্দ্রিয়ের সংস্পর্শে আসে তখন কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে যার ফলে মস্তিষ্কে সংকেত প্রেরিত হয় এবং আমরা কোন একটি বস্তু নাকে প্রবেশ করার অনুভূতি পাই। তাই এই অণুগুলোর উৎস কী ঘ্রাণেন্দ্রিয়র পক্ষে তা নির্ধারণ করা দুষ্কর। তাই একটি ছিদ্র হলেই কি যথেষ্ট ছিলো না? আমাদের শরীরের অনেক ধরনের ছিদ্রই কিন্তু একটি করে!

আসলে, যথেষ্ট ছিলো না। বিজ্ঞানীরা দু’টি নাসারন্ধ্রের প্রয়োজনীয়তা খুঁজে বের করেছেন। লক্ষ্য করলে বুঝতে পারবেন, আপনার নাকের দুটি ছিদ্র সবসময় একই পরিমান খোলা থাকে না। একটি দিয়ে খুব দ্রুত বায়ু প্রবেশ করতে পারে আর অপরটি দিয়ে বেশ অল্প পরিমান বায়ু প্রবেশ করে। নাকের উপরের দিকের একটি হাড় ডানে বা বামে সরে গিয়ে এই ফাঁক নিয়ন্ত্রণ করে। এর ফলে দুটি ছিদ্র দিয়ে প্রবেশকৃত অণুর গতির উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তারতম্য ঘটে এবং এই বিষয়টিই বিভিন্ন ধরনের বস্তুর ঘ্রাণ অনুভবের জন্য জরুরি। কিছু বস্তুর অণু নাকের ঘ্রানেন্দ্রিয় প্রান্তগুলোর সাথে বেশ দ্রুত মিথস্ক্রিয়া দেখায় আবার কিছু বস্তু তা করে খুব ধীর গতিতে। অর্থাৎ কিছু বস্তু খুব দ্রুত ঘ্রাণের অনুভূতি তৈরি করে, আর কিছু বস্তুর অনুভূতি তৈরি হয় ধীরে ধীরে।

তাই নাকের দুটি ছিদ্রই যদি একই পরিমান খোলা থাকত তাহলে সবরকম বস্তুর অণুই একই হারে ফুসফুসে ঢুকে যেত এবং এতে ধীরে অনুভূতি তৈরি করা বস্তুগুলো ঘ্রানেন্দ্রিয়র সাথে ক্রিয়া করার সুযোগ পেত না এবং তার ফলে আমরা সেই বস্তুর ঘ্রাণ অনুভব করতে পারতাম না। এই কারনে দুটি ছিদ্র প্রয়োজন যার একটির মাধ্যমে বাতাস ফুসফুসে খুব দ্রুত প্রবেশের মাধ্যমে শ্বসনক্রিয়া স্বাভাবিক রাখবে আর অপরটি গতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঘ্রাণের যথাযথ অনুভূতি তৈরি করবে।

তবে আমাদের নাকে স্বাভাবিক ভাবে মিউকাস (ঘন জলীয় বস্তু) তৈরি হয়। সর্দি হয় ভাইরাস জনিত কারনে। সর্দির ভাইরাস এমনভাবে বিবর্তিত হয়েছে যাতে এর সংক্রমনে মিউকাস মাত্রাতিরিক্ত হারে তৈরি হয় এবং তা ভাইরাসের বংশবিস্তারের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। এই অতিরিক্ত মিউকাস নাসারন্ধ্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে বায়ু চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। এই কারণেই সর্দি লাগলে আমাদের নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

Share.

মন্তব্য করুন