উচ্চ রক্তচাপ এবং নিম্ন রক্তচাপ যা জানা প্রয়োজনীয়

0

উচ্চ রক্তচাপ কি

স্বাভাবিক রক্তচাপের চেয়ে রক্তচাপ বেশি হলে তাকে উচ্চ রক্তচাপ বলা যেতে পারে। সবার জন্য এমন কোনও সুনির্দিষ্ট মাত্রা নেই যা দিয়ে রক্তচাপের মাত্রা নির্ণয় করা সম্ভব। একজন স্বাভাবিক মানুষের রক্তচাপ ১২০/৮০ তবে ১৩৯/৮৯ পর্যন্ত স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়া যায়।
কারো রক্তচাপ ১২০/৮০ এর অর্থ হচ্ছে তার হৃদসংকোচনের চাপ ১২০ এবং হৃদ প্রসারণের চাপ ৮০।
রক্তচাপের মাত্রা মাপার একক mmHg (Mili miter of Mercury)

উচ্চ রক্তচাপের সাধারণত কোন লক্ষণ দেখা দেয় না। অনেক লোকেরই উচ্চরক্তচাপ দেখা দেয় কোন উপরসর্গ ছাড়াই। নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করার মাধ্যমেই রক্তচাপ স্বাভাবিক আছে কিনা জানা যেতে পারে। এছাড়া নিচের উপসর্গগুলোও একটি বা একাধিক দেখা দিতে পারে উচ্চ রক্তচাপ জনিত কারণে:
১. ঘন ঘন মাথা ব্যথা হওয়া
২. চোখে দেখতে অসুবিধা হওয়া
৩. বুকে ব্যাথা
৪. শ্বাস নিতে সমস্যা
৫. অনিয়মিত নাড়ির স্পন্দন
৬. প্রস্রাবের সাথে রক্ত

টেবিল: রক্তচাপ শ্রেণিবিভাগ ও মাত্রা
htn-chart

হৃদসংকোচন চাপ এর আরেক নাম Systolic Blood Pressure. হৃদপ্রসারণ চাপ এর অপর নাম Diastolic Blood Pressure.
উচ্চ রক্তচাপ নানা ক্ষতির কারণ। আগেই বলা হয়েছে উচ্চ রক্তচাপের সুনির্দিষ্ট কোন উপসর্গ নাও দেখা দিতে পারে। যে সমস্ত কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে তা বর্জন করা উচিত। দীর্ঘদিন উচ্চরক্তচাপ কিডনি নষ্ট করে দিতে পারে।

উচ্চ রক্তচাপ ঝুঁকির কারণসমূহ
১. পাতে আলগা লবণ খাওয়া
২. অতিরিক্ত ওজন
৩. শারীরিক পরিশ্রমের কাজ না করা
৪. তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া
৫. ধূমপান ও মদ্যপান

এছাড়াও গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বাড়তে পারে। শতকরা ১০ ভাগ গর্ভবর্তী নারী গর্ভধারণ জনিত কারণে রক্তচাপের স্বীকার হন। বংশগতিও উচ্চ রক্তচাপের অন্যতম কারণ। বাবা-মায়ের দুজনের কিংবা একজনেরও উচ্চরক্তচাপ থাকলে সন্তানেরও উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বয়স ৪০ পেরুলেই নিয়মিত স্বাস্থ্য মনিটরিং করা উচিত।

উচ্চ রক্তচাপের ফলে যা হতে পারে
১. স্ট্রোক (Stroke)
২. হার্ট ফেইলর (Heart Failure)
৩. চোখের মারাত্মক ক্ষতি
৪. কিডনির ক্ষতি (Kidney Failure/Damage)

নিম্ন রক্তচাপ কি

রক্তচাপ ৯০/৬০ mmHg কিংবা এর নিচে গেলে নিম্ন রক্তচাপ বলে ধরে নেয়া হয়। ঔষধ সেবন কিংবা অন্য কোন শারিরীক রোগের জন্য নিম্ন রক্ত চাপ হতে পারে। যেমন: ডায়াবেটিস

নিম্ন রক্তচাপের উপসর্গসমূহ
১. মাখা ব্যাথা/ঘোড়ানো
২. বমির ভাব হওয়া
৩. চোখে ঝাপসা দেখা
৪. দুর্বলতা অনুভব করা
৫. হঠাৎ করে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া

রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা খুবই প্রয়োজনীয়। রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে করণীয়:
১. নিয়মিত রক্তচাপ মাপা ও নিয়ন্ত্রণ করা
২. দেহের স্বাভাবিক ওজন বজায় রাখা
৩. নিয়মিত ব্যায়াম/দৈনিক ৩০ মিনিট ঘাম ঝড়িয়ে হাঁটা
৪. খাদ্যাভাসে পরিবর্তন যেমন: বেশি বেশি ফল-মূল, শাক-সবজি খাওয়া। তেল ও চর্বি জাতীয় খাবার পরিহার করা
৫. গোলযোগপূর্ণ, শব্দদূষণমুক্ত পরিবেশে থাকা। চিৎকার চেচামেচি না করা।

– ডা. ফাবিয়া হান্নান মনি

Share.

মন্তব্য করুন