Top header

সমগ্র ইউরোপ জুড়ে প্রাণঘাতী বার্ড ফ্লু, সংক্রমণ ঝুঁকিতে মানুষ

0

বার্ড ফ্লু আবার ফিরে এসেছে এবং ফিরেই পাখিদের জন্য ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। H5N8 ভাইরাসটি সমগ্র ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বন্য পাখিসহ খামারের হাঁস-মুরগীকে হত্যা করে চলেছে, যা খামারিদের জন্য প্রধান চিন্তার কারন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাসটি মানুষকে আক্রান্ত করার মতো ভয়াবহতা প্রকাশ পায়নি, তবে এটা বিবর্তিত হয়ে চলেছে।

বর্তমান (H5N8)ভাইরাসটি H5N1 থেকে বিবর্তিত হয়ে এসেছে, যা ১৯৯৬ সালে চীনে হাঁস-মুরগী আক্রান্ত করার মাধ্যমে শুরু হয় এবং পরে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পরে। ২০০৪ সালে H5N1 সমগ্র পূর্ব  এশিয়া জুড়ে হাঁস-মুরগীর খামারের মাধ্যমে বিস্ফোরক আকার নেয় এবং পরে তা দেশান্তর হওয়া পাখিদের মাধ্যমে ২০০৬ সালে মধ্যে ইউরোপ ও আফ্রিকাতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকে ভাইরাসটি শুধু হাঁস-মুরগীর মাঝেই সুপ্ত ছিলো। বিশেষ করে এশিয়ার ফ্লুর টিকা দেয়া মুরগীগুলোর মাঝে, যেগুলো ভাইরাসটিকে বহন করতে থাকে। হাঁস-মুরগীতে সংক্রমিত হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বার্ড ফুতে আক্রান্ত হয়ে ৪৫২ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

কিন্তু H5N1 ভাইরাসটি দেশান্তর হওয়া পরিযায়ী পাখীর মাধ্যমেও ছড়িয়ে যাচ্ছে। ইউরেশীয়ার সকল পাখিগুলো গ্রীষ্মকালে উত্তর-মধ্য  এশিয়ার পাখিদের সাথে মিশে গিয়ে ভাইরাস বিনিময় করে এরপরে ছত্রভঙ্গ হয়ে আফ্রিকা,  এশিয়া এবং ইউরোপে ফিরে যায়। আর সম্প্রতি এভাবেই H5N1 কে অন্যান্য ফ্লুর সাথে উচ্চমাত্রায় বৃদ্ধি পেতে সহায়তা করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাকে জুলিও পিন্টো জানান, “আমরা জানিনা H5s এর আধিক্যতায় কোন বিষয়টি চালকের আসনে রয়েছে। তবে আমাদের ধারণা দেশান্তর হওয়া এবং জলবায়ুর পরিবর্তন এর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।”

ইউরোপের পোল্ট্রি চাষীরা ক্রিসমাসের জন্য তাদের রাজহাঁস এবং টার্কি পাখিদের মোটাতাজা করছিলেন, কিন্তু এক H5N1 এর সংকরই এখন তাদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।

ভাইরাসটি ২০১৪ সালে চীনে দেখা দেয়ার পূর্বে  দেশান্তরিত পরিযায়ী পাখির মাধ্যমে এটি জাপান, কোরিয়া এবং রাশিয়া ও উত্তর-পশ্চিম ইউরোপসহ যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এটা কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত পৌঁছেছিলো। জাতিসংঘের জাতীয় পোল্ট্রি গবেষণা কেন্দ্র থেকে ডেভিড সুয়াইন বলেন, এটা সম্ভবত উত্তর আমেরিকাতেও পৌছে গেছে।

২০১৪ সালে কিছু বন্য পাখি এতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলো। কিন্তু চলতি বছরের জুন মাসে H5N8 এর কারনে রাশিয়া এবং মঙ্গোলিয়ার মাঝামাঝি Uvs-Nuur অববাহিকায় প্রচুর বন্য পাখি মারা যায়। এ অঞ্চলটি জীববৈচিত্র সংরক্ষণের জন্য একটি বিশেষ যায়গা।

এবার উত্তর থেকে দক্ষিণের দেশান্তরিত হওয়ার পথে ভারত, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের চারদিকে H5N8 ছড়িয়ে পড়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যখন পাখিরা ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে বাঁচার জন্যে এসব অঞ্চলে ভ্রমণ করেছিলো। বরফাচ্ছাদিত হ্রদ থেকে পাখিগুলো যখন খোলা পানির সন্ধানে বেড়িয়ে পড়বে তখনি এই ভাইরাসটি বড় আকারে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

ডেনমার্ক, সুইজারল্যান্ড এবং জার্মানির কয়েক ডজন খামার ইতিমধ্যেই সংক্রমিত হয়ে গেছে। মুক্ত পরিবেশের রাজহাঁসদের এখন বন্য পাখি থেকে দূরে রাখার জন্য গৃহে আবদ্ধ করা হচ্ছে। টার্কিদের এ ভাইরাস বহন করার সামর্থ অনেক বেশি। গত সপ্তাহে হাঙ্গেরিতে একটি খামার সংক্রমিত হয়ে ৯০০০ টার্কি মারা গেছে। ক্রিসমাসের জন্য এ দেশটি প্রচুর পরিমাণে টার্কি ও রাজহাঁস উৎপাদন করে।

এই ভাইরাসে রাজহাঁস, শঙ্খচিল এবং গুচ্ছবদ্ধ হাঁসসহ প্রচুর পরিমাণে বন্য পাখিও মারা যাচ্ছে। নেদারল্যান্ডের ইরাসমাস মেডিকেল সেন্টার থেকে রন ফোচিয়ার বলেছেন, “H5N8 বন্য পাখির মাঝে ফ্লুর নতুন প্রজাতির জিন সরবরাহ করেছে, এর ফলে এটি আরো বেশী মারাত্মক হতে পারে।”

যদিও মানুষ এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসটির সংক্রমণ থেকে মুক্ত ছিলো কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে এর ঝুঁকি থেকে মানুষ এখন আর নিরাপদ নয়। জার্মানীতে একটি সংক্রমণ গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান এবি ওস্থেরাস বলেন, “এ ভাইরাস সম্পর্কে আপনার আত্মতুষ্টিতে থাকার কোন সুযোগ নেই।” [New Scientist অবলম্বনে]

-শফিকুল ইসলাম

Share.

মন্তব্য করুন