Top header

২০২০ সালের মাধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ জীববৈচিত্র্য হারাতে যাচ্ছে পৃথিবী

0

আমাদের পৃথিবী Antropocene নামের এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে, এখানে মানব কর্মকান্ড অপূরনীয়ভাবে এবং ভয়াবহ হারে এই গ্রহের ভুতত্ত্ব এবং বাস্তুতন্ত্র বদলে দিচ্ছে। পরিবর্তিত বায়ুমন্ডল, মাটি, পানি এবং বনাঞ্চল নিয়ে এই নতুন বিশ্বে বন্যপ্রানী থাকবে তুলনামূলকভাবে অনেক কম। বস্তুত, ডায়নোসরের পরবর্তী যুগে এর ফলেই সৃষ্টি হতে পারে সবচেয়ে বড় গণবিলুপ্তির ঘটনা।

ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড (WWF) ও জুওলজিক্যাল সোসাইটি অব লন্ডন (ZSL) এর যৌথ উদ্যোগে উদ্ঘাটন করেছে, ১৯৭০ সালের তুলনায় ২০২০ সালের মধ্যে পৃথিবীর মোট পাখি, মাছ, স্তন্যপায়ী, উভচর এবং সরীসৃপের সংখ্যা ৬৭ শতাংশ হ্রাস পেয়ে যাবে। ইতিমধ্যে ১৯৭০ সালে থেকে ২০১২ সালের মাধ্যে বন্যপ্রানীর সংখ্যা ৫৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

সমগ্র বিশ্বব্যাপী ৩৭০০০ মেরুদন্ডী প্রজাতির ১৪,২০০ টি একক প্রানীর সংখ্যা পরিবর্তনের প্রবণতার উপর তথ্য সংগ্রহ করে এই পরিসংখ্যান এবং অনুমিত প্রক্ষেপন তৈরি করা হয়েছে। অদ্যবধি সংকলিত সব জরিপের মধ্যে এটিই ধরিত্রির স্বাস্থ্যের উপর করা সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য জরিপ।

বন্যপ্রানীর সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় হুমকী আবাসস্থল ধ্বংসকরণ। বিশেষ করে, WWF এর তথ্যমতে, বাসস্থান ধ্বংসের উল্লেখযোগ্য এবং বিরাট অংশের কারণ হচ্ছে স্বেচ্ছাচারী এবং অটেকসই কৃষি, শিল্পায়ন, কাঠ সংগ্রহ, খনি কার্যক্রম, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বাণিজ্যিক কর্মকান্ড। এর বাইরে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন ভুমিকায় রয়েছে অবৈধ শিকার, সম্পদের অতিআহরণ, দূষন, বহিরাগত প্রজাতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন।

তবে যদিও আমরা একেবারে খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছি, এখনো সব শেষ হয়ে যায় নি। ZSL এর বিজ্ঞানবিষয়ক পরিচালক প্রফেসর কেন নরিস বলেন, “বন্যপ্রানী হ্রাস পাচ্ছে তবে বিলুপ্ত হয়ে যায় নি এখনো- এবং এই পরিস্থিতি আমাদের সচেতন হওয়ার ইঙ্গিতবাহী।”

আপনি যদি মনে করে থাকেন আমাদের হাল ছেড়ে দেওয়া উচিৎ, তাহলে আপনাকে মনে করিয়ে দেওয়া যাক কয়েক মাস আগে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে পৃথিবীর ১৯৫ টি দেশ বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ সীমাবদ্ধ রাখার বিষয়ে একমত হয়েছে এবং CITES বন্যপ্রানী সম্মেলন সফলতার সাথে হাঙ্গর, রে, আফ্রিকান তোতাপাখী, গিরগিটি এবং আরো অনেক বিপন্ন প্রানীর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সফল হয়েছে। যদি সরকার, শিল্পকারখানা এবং নাগরিকবৃন্দ এখন হতেই তাদের ভুমিকা রাখতে শুরু করে তাহলে এই গ্রহের ভবিষ্যত আশঙ্কা অনুযায়ী বিবর্ণ হবে না।

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

Share.

মন্তব্য করুন