ভাবের আদান-প্রদান শেখাতে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রেমের উপন্যাস পড়তে দেয়া হয়েছে

0

গুগলের সর্বশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রকল্পকে আরো বেশী সহযোগী ও আলাপচারিতাপূর্ণ করার জন্য একে কয়েক মাস পর্যন্ত প্রেমমূলক উপন্যাস পড়তে দেয়া হয়েছে। গুগল মনে এর মাধ্যমেই মানুষের মতো অনুভূতি বুঝার ক্ষমতা কম্পিউটার সহজেই অর্জন করতে পারবে।

এই প্রচেষ্টা এআইকে(Artificial Intelligence )মানুষের সঙ্গে কথোপকথোন এবং ভাষা উভয়ই বোঝার ক্ষমতা তৈরী করার মতো সাজানো হয়েছে। ২,৮৬৫ টি উপন্যাস যার মধ্যে রয়েছে Fatal Desire, Jacked Up এবং Unconditional Love পড়ার পর  এআই এইসব উপন্যাসের মতো করে বাক্য লিখতে শুরু করেছে।

এর মানে এই নয় যে, এটি শুধু গল্প-উপন্যাসের মতো অসাধারণ সব লাইন লিখে ফেলছে। সাথে সাথে স্বাভাবিক ভাবে বাক্যালাপও শুরু করেছে।

গুগলের মূখপাত্রের ভাষ্য মতে, প্রেমের উপন্যাস চলিত ভাষা শেখার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উপযোগী। কারণ এগুলোর মধ্যে আন্দাজ করার মতো কাহিনী এবং চক্রান্ত থাকে কিন্তু সেগুলো বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য নানা ধরণের আনন্দময় ও বৈচিত্রপূর্ণ শব্দভান্ডার ব্যবহার করা হয়।

এসব উন্নতি সাধন গুগলের পন্যসমূহকে যেমন সার্চ, গুগল নাউ এবং স্মার্ট রিপ্লাই আমাদের ভাষা বুঝার ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি করবে। সার্চ বা অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে কোন প্রশ্ন আলাপচারিতাপূর্ণ স্বরে লেখা হলে তাতে সাড়া দেয়ার প্রবণতা আরো উন্নত হবে। যখন স্মার্ট লিপ্লাই আপনার ইমেইলের উত্তর সাধারণ মানুষের মতো স্বরে দিতে সক্ষম হবে। আর এন্ড্রয়েড স্মার্টফোনের এসিস্টেন্ট গুগল নাউ এ ক্ষেত্রে আরো প্রাকৃতিক ভাবে সাড়া দিতে পারবে।

গুগলের একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী এন্ড্রু ডাই বলেন, “গুগল এপ্লিকেশনের সাড়া প্রদান অনেক তথ্যবহুল হয়।আমরা আশা করছি এদের ভবিষ্যৎ উন্নতি সাধনে এগুলো আরো আলাপচারিতাপূর্ণ, বৈচিত্রময় স্বরের হবে।”

ডাই আরো বলেন, “আমরা পণ্যগুলো নিয়ে সরাসরি কাজ করছি যাতে এর মাধ্যমে কোন খারাপ কাজ করার নূন্যতম ঝুঁকি না থাকে, যেগুলো আমাদের কাম্য নয়।” ডাই এর মতে গুগলের এআই তত্ত্বগতভাবে নিজের মতো করে প্রেমের উপন্যাস লিখতে পারে।

‘Her’ চলচ্চিত্রের কথা যদি মনে থাকে তাহলে দেখবেন সেখানে জোয়কুইন ফিনিক্স একটি ভার্চুয়াল সহকারীর প্রেমে পড়ে যান। ডাই উল্লেখ করেন, এআই যে রকম প্রশিক্ষণ নিচ্ছে তাতে শেষ পর্যন্ত একটি মানুষকে এর প্রেমে পড়ার মতো সন্তুষ্ট করতে পারবে।

মেশিনকে প্রাচীন গ্রি্ক গল্পের মূর্তির সাথে তুলনা কর হয়, সেখানে একজন মানুষ মূর্তিটির প্রেমে পড়ে যায়। ডাই বলেন, “যদি আপনি একটি মূর্তির প্রেমে পড়তে পারেন তবে বিশেষ ভাবে প্রেমের উপন্যাসের উপর প্রশিক্ষিত স্নায়ুর নেটওয়ার্কের সাথে প্রেমে না পড়ার কোন কারণ দেখিনা।”

-শফিকুল ইসলাম

Share.

মন্তব্য করুন