বিশ্বের প্রথম তিন পিতামাতার সন্তান জন্ম নিয়েছে সম্প্রতি

0

সন্তান জন্মদানের জন্য একজোড়া পিতামাতার প্রয়োজন হয়। তবে বিশ্বে এই প্রথমবারের মতো একটি পুত্রসন্তান জন্মদানের জন্য ভুমিকা রেখেছেন তিনজন। এই সন্তান জন্মদানের প্রক্রিয়াটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা করেন প্রথিতযশা বিজ্ঞানী জন ঝ্যাং, যিনি সম্প্রতি জর্দানের একটি দম্পতিকে সন্তান গ্রহণের সুযোগ করে দেন তৃতীয় এক ব্যাক্তির কাছ থেকে জিনগত সহায়তা নিয়ে। এই প্রক্রিয়াটি মেক্সিকোতে চালানো হয়, যেখানে সন্তান জন্মদানের জন্য এধরনের ব্যবস্থা নেওয়ায় আইনগত কোনো বিধিনিষেধ নেই।

ছেলেটির মা তাঁর ডিনএতে লেই সিন্ড্রোম নামের এক প্রাণঘাতি রোগের জীন বহন করছিলেন, যার ফলে নবজাতকের দেহে স্নায়ুতন্ত্র যথাযথভাবে বিকাশে বাধাগ্রস্থ হয়। যদিও এই জিনটির কার্যকারীতা মায়ের দেহে প্র্রকাশিত হয়নি, তথাপি এই দম্পতির আগের দুটি সন্তান এই জিনের প্রভাবে মৃত জন্ম নেয়।

মায়ের শরীরের কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় অবস্থিত ডিএনএতে একটি মিউটেশনের ফলে এই ধরনের মারণ জিন তৈরি হয়। এবং গর্ভধারণের সময় কেবল মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়ার ডিএনএটিই নবজাতকের শরীরে গমন করে। বাবার মাইটোকন্ড্রিয়ার ডিএনএ নবজাতকের দেহে যায় না। এই ডিএনএটি নিউক্লিয়াসের ক্রোমোসোমে অবস্থিত ডিএনএ হতে সম্পূর্ন পৃথক এবং প্রতিলিপিও তৈরি হয় স্বতন্ত্রভাবে।

ঝ্যাং এই সমস্যা মোকাবেলায় এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেন। তিনি দাতার দেহ থেকে ডিম্বানু সংগ্রহ করে তার নিউক্লিয়াস ফেলে দিয়ে মায়ের দেহের নিউক্লিয়াস দিয়ে প্রতিস্থাপিত করেন। ফলে নতুন ডিম্বানুটিতে মায়ের নিউক্লিয়াসের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য অক্ষুন্ন থাকলেও মাইটোকন্ড্রিয়া তৈরির ডিএনএটি দাতারই থেকে যায়। এই ডিম্বানুটি পরে বাবার শুক্রাণু দিয়ে নিষিক্ত করা হয়। অতপর মায়ের দেহে প্রতিষ্ঠাপিত করে স্বাভাবিক ভাবে বাড়তে দেওয়া হয়।

যদিও নৈতিক অবস্থান থেকে এধরনের পদ্ধতি বিতর্কিত, তবে ঝাং মনে করেন এধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করে মানুষের জীবন বাঁচানোই নৈতিকতা। বিশ্লেষণ থেকে দেখা যায় প্রায় নবজাতকেটির মাইটোকন্ড্রিয়ার ডিএনএতে কেবল ১ শতাংশে লেই সিন্ড্রোমের মিউটেশন রয়েছে। যা চিকিৎসকরা আশা করছেন তার দেহে এই রোগের বিস্তারের জন্য যথেষ্ট হবে না। অবশ্যই ছেলেটি সত্যিই মৃত্যু এড়াতে পারবে কিনা তা কেবল সময়ই বলতে পারে। [iflscience অবলম্বনে]

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

Share.

মন্তব্য করুন