নিউটনের তৃতীয়সূত্র ‘অবমাননাকারী’ এম ড্রাইভ এর গবেষণা প্রকাশিত হতে যাচ্ছে!

0

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস পত্রিকার ভাষ্য অনুযায়ী, ড. হোসে রোডাল নামে এক বিজ্ঞানী নাসা স্পেসফ্লাইট ফোরামে (এটা মূলত নাসার কোন সহযোগী নয়) আসন্ন প্রকাশনা সম্পর্কে একটি মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, পাক্ষিক পর্যালোচনা নথিতে এমড্রাইভ (EmDrive, এম ড্রাইভ সম্বন্ধে জানতে এখানে পড়ুন) এর কার্যকরিতা নিশ্চিত করেছেন।

পোষ্টটিতে তিনি নথিগুলোর সার্মর্ম করেছেন যা দি আমেরিকান ইনস্টিটিউট অফ এরোনটিক্স এন্ড এস্ট্রোনটিক্স (AIAA) – Propulsion and Power জার্নালে প্রকাশিত হবে।

এমড্রাইভ একটি বিতর্কিত প্রোপালশনবিহীন ইঞ্জিন যা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করে আকষ্মিক ধাক্কার (Thrust) সৃষ্টি করে যা একটি কক্ষে আটকে থাকে এবং দৃশ্যত রকেট ইঞ্জিনের মতো কোন বস্তু নির্গত করেনা। এটি গতিবিদ্যার আইন লঙ্ঘন করেছে বলে মনে হলেও এটা কিভাবে কাজ কছে তার ব্যাখ্যা এখানে রয়েছে। যদিও এটা এখন প্রমাণহীন অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

এমড্রাইভের একটি প্রোটোটাইপ

এমড্রাইভের একটি প্রোটোটাইপ

ড. হোসে রোডাল এর মতে সাম্প্রতিক নথি দাবি করছে, “Thrust এর উপাত্ত TM212 আকারে Torr এর থেকে কম পরিবেশে, সামনে থেকে, পেছন থেকে এবং অকার্যকর (null) অবস্থায় পরীক্ষার ফলাফল  এই ইঙ্গত করে যে, পদ্ধতিটি ধারাবাহিকভাবে Thrust শক্তির 1.2 +/- 0.1 mN/Kw  অনুপাতে কাজ করে যাচ্ছে।” ইঞ্জিনটি বিশেষ শব্দে এই ইঙ্গিত করছে সত্যিই এটি অতি অল্প পরিমান ধাক্কার সৃষ্টি করেছে অবশ্য তা স্বাভাবিক বায়ুমন্ডলীয় চাপের চেয়েও কম।

যদিও মন্তব্যটি সাথেসাথেই মুছে ফেলা হয়েছিল তবুও অনেকই সেটা সংগ্রহ করেছিল। যেহেতু এমড্রাইভ কোন অলৌকিক ইঞ্জিন নয় যা পদার্থবিজ্ঞানের আইন ভঙ্গ করে তবে, স্বল্প খরচে (দীর্ঘ ও দ্রুত ভ্রমনের জন্য) আন্তঃগ্রহ ভ্রমণের জন্য এটি আকর্ষণীয় প্রকল্প হতে পারে। কিন্তু এখনও এটি বিতর্কের বিষয় হয়েই রয়েছে।

তাত্ত্বিকভাবে এটি মাইক্রোনিউটনের মতো অল্প ধাক্কার সৃষ্টি করে কিন্তু এটি কোনপ্রকার জ্বালানী ব্যবহার করে না। এটা ক্রমাগত ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সময়ের সাথে সাথে উচ্চ গতি অর্জন করতে সক্ষম হবে। এমড্রাইভের ধাক্কার চেয়ে গতানুগতিক রকেটে ৫০,০০০ গুণ বেশি রয়েছে কিন্তু এর জন্য আপনাকে পুরো জ্বালানী বহন করে নিতে হবে।

নতুন প্রযুক্তির খোঁজে নাসার তৈরী ঈগলওয়াকর্স নামক ল্যাবে এমড্রাইভের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এমড্রাইভ পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত পল মার্চ বলেন এব্যাপারে নথিপত্র দাখিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা এমড্রাইভকে মহাকশে পরীক্ষার জন্য চিন্তাভাবনা করছেন। কিন্তু এর দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি, তবে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এ পরীক্ষা চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে যতক্ষণনা পরীক্ষার কোন ফলাফল আসছে ততক্ষণ আমাদের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

-শফিকুল ইসলাম

Share.

মন্তব্য করুন