Top header

মঙ্গলযাত্রা নিয়ে ইলন মাস্কের উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা প্রকাশ

0

একটা লম্বা সময় অপেক্ষা করার পর অবশেষে গতকাল স্পেসএক্স (Space X) এর প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক মেক্সিকো আন্তর্জাতিক এস্ট্রোনমিক্যাল কংগ্রেসে (IAC) মঙ্গলে মানুষের উপনিবেশ স্থাপনে তাঁর যে পরিকল্পনা তা প্রকাশ করেন।

আর ইলন মাস্কের এই প্রস্তাবকে আন্তঃগ্রহ পরিসেবা পদ্ধতি (ITS) নামে নামকরণ করা হয়। এই প্রকল্প একই সময়ে একসাথে ১০০ জন মানুষ বহন করে লাল গ্রহটির পৃষ্ঠে পাঠাতে পারবে।  একটি দৈত্যাকার রকেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে কাজটি। আর এরই সাথে রকেটটি নাসার সবচেয়ে বড় রকেট Saturn V -র আকারকে পেছনে ফেলে ইতিহাস তৈরী করবে।

ইলন মাস্ক তাঁর উপস্থাপনায় বলেন, “আমি মঙ্গলে গমন সারা জীবনের জন্য সহজতর সম্ভব করতে চাই। যেন যে কেউ চাইলেই সেখানে যেতে পারে।”

নামহীন এই রকেটটি (বর্তমানে ‘মঙ্গল যান’ নামে ডাকা হচ্ছে) দেখতে অসাধারণ ও চিত্তাকর্ষক। সবার উপরে মহাকাশযানটিকে একইসাথে মানুষ অথবা কার্গো বহন করার মতো করে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। নিচের অংশে রকেটটিকে মহাকাশের কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য স্পেসএক্সের নতুন ইঞ্জিন মিথেন জ্বালানী ব্যবহারযোগ্য রেপটর রাখা হয়েছে। যা রকেটিকে কক্ষপথে রেখে এসে পুনরায় উৎক্ষেপন করার জন্য কেপ কেনাভেরাল, ফ্লোরিডার উৎক্ষেপন স্থানে নিরাপদে ফিরে আসবে।

মঙ্গল অভিযান পরিকল্পনার এনিমেশন চিত্র

মঙ্গলে প্রমোদ ভ্রমণের জন্য মানুষ নিয়ে একটি রকেট উৎক্ষেপন করার পর আরেকটি রকেট জ্বালানী নিয়ে কক্ষপথের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। পরবর্তী যানটি পূর্বের যানের সাথে মিলিত হয়ে মিথেন ভিত্তিক জ্বালানী সরবরাহ করে দেবে এবং মঙ্গলের উদ্দেশ্যে যাত্রা পূণরায় শুরু করবে। ইলন মাস্ক বলেন, প্রথম যানটিকে ‘হার্ট অব গোল্ড’ নামে ডাকা হবে।

এটা শুনতে অনেকটা কল্পকাহিনীর মতো হলেও, ইলন মাস্ক তার স্বভাব সূলভ চরিত্রের মাধ্যমেই আজ থেকে ১০ বছর পরের প্রথম যাত্রার অবতরনের জন্য এক অতিশয় আশাবাদী টাইমলাইন দিলেন। যা আনুমানিক ২০২৬ এর কাছাকাছি কিংবা তারও আগে ২০২৪ মধ্যে শুরু করা হবে।

আরও রয়েছে। তিনি ইঙ্গিত করেন যে, সে মঙ্গলকে পরিবর্তন করে এতে মহাকাশ পোশক ছাড়াই মানুষের বসবাস উপযোগী করতে চান। যদিও সে এই কাজ কিভাবে করবেন তার বিস্তারিত পরিকল্পনার ব্যাখ্যা প্রকাশ করেননি। উপরন্তু তিনি একজন শিণ্পীর মতো করে মঙ্গল রূপান্তরের কাহীনি উপস্থাপন করে গেলেন।

ইলন মাস্কের পরিকল্পিত মঙ্গলের রূাপান্তরিত চিত্র

ইলন মাস্কের পরিকল্পিত মঙ্গলের রূাপান্তরিত চিত্র

এই অগ্রগতির জন্য স্পেসএক্স ২০১৮ সালে থেকে পৃথিবী এবং মঙ্গল যখন অনুকূল দূরত্বে সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করবে তখন থেকে মঙ্গল অভিযান শুরু করবে। এটা প্রতি ২৬ মাস পর পর পৃথিবী ও মঙ্গল একবার কাছাকাছি অবস্থানে আসে সুবিধাজনক উড্ডয়নের জন্য।

এই মুহূর্তে স্পেসএক্সের মোট কর্মীর পাঁচ ভাগ এই ITS প্রকল্পে কাজ করে যাচ্ছেন। ৪০ থেকে ১০০ বছরের মাধ্যে কমপক্ষে ১০ লক্ষ মানুষকে আনুমানিক ১০ হাজার ট্রিপের মাধ্যমে মঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার আশা করছেন তিনি। ইলন মাস্ক জানান মঙ্গল যাত্রাকে (পাঁচ মাসের ভ্রমণ) আরামদায়ক ও মজাদার করতে মহাকাশযানটিতে জিরো –জি গেম এবং রেস্টেুরেন্টসহ অন্যান্য অনেক ব্যবস্থা রাখা হবে।

মাস্ক বলেন, “এবং দিনশেষে মঙ্গল থেকে কেউ যদি ফিরে আসতে চায় সে দিক চিন্তাকরে মঙ্গলযানটিকে ফিরে আসার মতো করেও ডিজাইন করা হয়েছে। মঙ্গল কোন ধোঁকাবাজির খেলা নয়।”

এটা অতিশয় আশাবাদী বলে মনে হতে পারে এবং এটা যে তা্ ই সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু ইলন মাস্ক যে কাজটা সম্পন্ন করতে কতোটা তৎপর তা তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন। এই প্রকল্পে যতটা সম্ভম তিনি নিজের অর্থই বিনিয়োগ করছেন।

তিনি বলেন, “সম্পদ জমানোর চেয়ে আমি বিভিন্ন গ্রহে বসবাসের জন্য বড় অবদান রাখার সুযোগটাকেই আমি বড় করে দেখি।”

আর এ্টাই একটা বড় প্রশ্নের আংশিক উত্তর হয়ে গিয়েছে। কেন একটা মৃত গ্রহকে নিয়ে এত উৎসাহ? সেখানে আমরা মহাকাশ পোশাক বা ইতিবাচক অবকাঠামো ছাড়া বসবাস করতে পারবোন। তাহলে কেন আমরা সেখানে যেতে চাচ্ছি?

উত্তরটা ইলন মাস্ক খুব সহজ ভাবেই দিলেন। মানুষ একপর্যায়ে রোজকিয়ামতের মুখোমুখি হবে, গ্রহাণুর প্রভাব কিংবা অন্য কোন সভ্যতার শেষ দৃশ্য মঞ্চায়ীত হবে। যদি আমরা অন্য কোন গ্রহে বা বিশ্বে বসবাস না করি তবে আমরা বেশ মাতাল রয়েছি।”

এসব বিষয় মাথায় রেখে ইলন মাস্ক মঙ্গল যাত্রা থামিয়ে রাখবেন না। তিনি ITS এর মাধ্যমে শনির চাঁদ ইনছেলাডাস, বৃহষ্পতির চাঁদ ইরোপাসহ অন্যান্য  সব যায়গায়  ভ্রমণের ব্যবস্থা সচল রাখতে পারবে।

এটা কি অর্জনীয় কাজ? হ্যাঁ, এটা একটালম্বা বিতর্কের বিষয়। রেপটর ইঞ্জিনের প্রদর্শনীর মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে মাস্ক অনেকটা যায়গা দখল করে নিয়েছে। এই ইঞ্জিনগুলি অন্তর্ভূক্ত করার মাধ্যমে রকেটকে শক্তি প্রদান করা হবে এবং বিশাল বিশাল জ্বালানী ট্যাংক মহাকাশযানে নিজে নিজে ব্যবহার করতে সক্ষম হবে।

ধারণা করা হচ্ছে এই মহাকাশযানটি সৌরজগতের যেকোন স্থানে উড্ডয়ন এবং অবতরণ করতে পারবে

ধারণা করা হচ্ছে এই মহাকাশযানটি সৌরজগতের যেকোন স্থানে উড্ডয়ন এবং অবতরণ করতে পারবে

কিন্তু এজন্য অনেক বাধা পেরুতে হবে এনিয়ে কোন দ্বিমত নেই। মঙ্গলে কিভাবে উপনিবেশগুলি টিকে থাকবে? কে যাবে ঐ গ্রহে। বিকিরণের সাথে কিভাবে নিজেকে রক্ষা করবে(মাস্ক বলেন এটা কোন বড় সমস্যা হবেনা)?

এই প্রশ্নগুলি আগামী কয়েকদিন, মাস কিংবা বছর ব্যাপী সময় নিয়ে বিবেচনার কেন্দ্রে থাকবে। এখনকার জন্য মাস্কের উদ্দেশ্য হচ্ছে সরকারী ও বেসরকারী কোম্পানীগুলোকে অনুপ্রানীত করা যাতে তাঁরা তার পরিকল্পনার সাথে একাত্বতা পোষণ করেন। সে সহযোগীতা চাচ্ছেন, সাহায্য চাচ্ছেন। এটাকেই তার জন্য একটি অস্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, “প্রথম যাত্রাটি খুবই বিপদজনক হবে। মৃত্যুর ঝুঁকি প্রবল। আরোহীকে অবশ্যই মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে হবে।”

কিন্তু এসকল আলোচনার ভীরে মাস্ক এর এই পরিকল্পনা মিডিয়ার ব্যবপক আগ্রহ তৈরী করেছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হওয়া অসম্ভব কিছুনয়। স্পেসএক্স দেখিয়ে দিয়েছে ২০০২ সালে বলার মতো কিছু নানিয়ে শুরু করে আজকে বিশ্বের অন্যতম নেতৃস্থানীয় একটি উড্ডয়ন পরিচালক হিসেবে আজকের এই অবস্থানে পৌছেছে এটাকেই মাস্ক সবার সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি কি সত্যিই মঙ্গলে একটি শক্তিশালী উপনিবেশ শুরু করতে পারবেন? সেটা সময়ই বলে দেবে।

শফিকুল ইসলাম

Share.

মন্তব্য করুন