বিবর্তন সূত্রেই মানুষ সহানুভূতিশীল !

0

আমরা এখনো মানবতায় আস্থা রাখতে পারি। কারণ নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে  প্রজাতি হিসেবে মানুষ অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রজাতির তুলনায় অপরিচিতদের বেশি সাহায্য করার ইচ্ছা প্রকাশ করে এবং মা্নুষ নিজেদের মধ্যে অন্যান্য প্রাণীদের চেয়ে কম দ্বন্দ্ব প্রদর্শন করে থাকে। ঘরের টেলিভিশনটি চালু করলে অবশ্য এই কথাটি বিশ্বাস করতে আপনার একটু কষ্টই হবে। তবে নতুন গবেষণা এমনটাই ইঙ্গিত করছে যে, আমারা মূলত নিজেদেরকে সম্পদশালী করার পরিবর্তে সহানুভূতিশীল হিসেবে নিজেদের উন্নত করে আসছি এবং অন্য সকল প্রজাতিকে সাদরে গ্রহণ করে থাকি।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল, সান্তা বারবারা (UCSB) এবং জার্মানীর ইন্সটিটিউটের ম্যাক্স প্লাংক বলিভিয়ায় বসবাসকারী ১৫০ জন কৃষকের উপর গবেষণা পরিচালনা করার জন্য একটি উপযুক্ত নমুনা তৈরী করেন। তাঁরা দেখেন অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের জমি রক্ষা করার জন্য একে অন্যের সঙ্গে মিলে নিয়মিত কাজ করার প্রয়োজন পড়ে। UCSB থেকে নৃতত্ত্ববিদ মাইকেল গারভেন বলেন “আজকাল আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর আঞ্চলিক আধিপত্য, বিশুদ্ধ পানিসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের সরবরাহ ধরে রাখার জন্য নিজেদের মধ্যে সহযোগীতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’’

এই গবেষনার লক্ষ্য ছিলো এ বিষয়ে আরো ভালোভাবে ধারণা নেয়া যে, কোন বিষয়টি মূলত একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতে কিভাবে আমরা অন্যদের উৎসাহিত করতে পারি একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে যাদের কৃষিজমি রক্ষা করার প্রয়োজন নেই ।

তিনটি ভিন্ন গোষ্ঠীর কৃষক থেকে সর্বমোট ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক নেয়া হয় এবং তাদের একটি খেলা খেলতে দেয়া হয়। সেখানে তাদের নিজ গোত্রের অপরিচিতদের (একই ধর্ম ও স্বজাতী) এবং অন্য গোত্রের অপরিচিত (ভিন্নধর্ম ও ভিন্নজাতী) উভয় গোত্রের লোকদের অর্থ দিতে বলা হয়।

অংশগ্রহণকারীদেরকে তাদের ছবি দেখানো হলো যে লোকগুলোকে তারা অর্থ দিচ্ছে এবং যারা অর্থ নিচ্ছে তাদেরও অর্থ প্রদানকারীর নাম বলে দেয়া হলো। যদিও এটি একটি খেলা ছিলো তবুও এই স্বচ্ছতা অর্থ গ্রহণকারী ও প্রদানকারীর উভইয়ের এই লেনদেন পারষ্পরিক সুবিধা প্রদানের ধারণাকে শক্তিশালী করে।

ফলাফলে দেখা যায়, যারা নিজেদেরকে অসহায় মনে করতো তারা অন্য গোত্রের অপরিচিতদের বেশি অর্থ দিয়েছে এবং যারা বেশি লাভ করেছে তারা মূলত নতুন বন্ধুদের কাছ থেকেই পেয়েছে। যেসকল মানুষ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে সময় কাটিয়েছে এবং বিভিন্ন রকমের মানুষের সাথে পরিচিত হয়েছে তারাও ভিন্ন গোত্র ও ধর্মের মানুষের প্রতি অনেক উদার ছিলেন।

ফলাফল এই ইঙ্গিত করে যে, সম্পদের প্রয়োজনীয়তা কিংবা অর্জনের আকাঙ্ক্ষা, ভিন্ন জাতীগোষ্ঠির সঙ্গে ইতিবাচক ও সরাসরি অভিজ্ঞতা গ্রহণের ইচ্ছা মানুষকে সহনশীল, দয়ালু এবং বিশ্বস্ত হওয়ার দিকে ধাবিত করে।

গবেষকদের একজন এনা পিসর বলেন, “আমরা আমাদের আন্তঃ-গোত্রীয় দ্বন্দ্বে আচ্ছন্ন থাকার কারণে মানুষ যে অনেকটা সহিষ্ণু ও বন্ধুত্বপ্রবণ ‍সে সম্পর্কে খুব কমই জানি।”

তিনি আরোও বলেন, “আমরা যদি এই সহানুভূতিশীল হওয়ার ভেতরের কারণটা উন্মোচন করতে পারি তবে এটা গোত্রীয় সীমা পেরিয়ে বন্ধুত্বের শিক্ষা গ্রহণ করতে সাহায্য করতে পারবে বলে আশা করি এবং আমাদের প্রত্যহিক জীবনে সংঘাতের যে খবর আমরা পাই তা অনেকাংশে কমে যাবে।”

গবেষকরা এটা উপলব্ধি করলেন যে, বিভিন্ন সম্প্রদায়গুলি নানারকম সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে থাকা সত্ত্বেও আমাদের মাঝে এমন অনেকেই রয়েছেন যারা প্রয়োজনীয় সাহায্য পাওযার জন্যে পরনির্ভশীল নন।এক্ষেত্রে বলিভিয়ার ১৫০ জন কৃষক আমাদের কিছু সূত্র দিয়ে গেলেন কেন অতীতের মানুষগুলি এত উদার ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন।

আমরা বহিরাগতদের সঙ্গে অধিক বন্ধুত্বপূর্ণ হই এবং এটা বদ্ধি পায় যখন আমরা তাদের আরও ভালোভাবে জানতে পারি। আর এ বিষয়টি বর্তমান সমাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

শফিকুল ইসলাম

Share.

মন্তব্য করুন