বন্যপ্রাণী ধ্বংসের প্রধান কারণ শুধু জলবায়ুর পরিবর্তন নয়

0

বণ্যপ্রাণী বিলুপ্তির কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকে প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয় কিন্তু মানুষ নানা প্রজাতির অর্থকরী ফসল ও খাদ্য উৎপাদনের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞানীরা এক বিশ্লেষণে দেখেন প্রায় ৯ হাজারের মতো প্রজাতি ‘হুমকিতে’ বা ‘প্রায় হুমকিত’ রয়েছে আর এদের মাঝে শুধুমাত্র মানুষের ব্যবসায়িক, বিনোদন কিংবা জীবিকা নির্বাহের জন্য তিন-চতুর্থাংশ অতি-আহরণের শিকার হচ্ছে।

উদাহরণস্বরূপ মাংস এবং অঙ্গ-প্রতঙ্গের চাহিদার কারণে পশ্চিমা গরিলা এবং চিনের পাংগলিন এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এছাড়াও চীনে বাজে ঔষধ তৈরীর কাজে ব্যবহারের ফলে সুমাত্রার গন্ডারের শিংয়ের অতি ‌আহরন এদের ধ্বংশের দ্বার প্রান্তে পৌছে দিয়েছে। এছাড়াও আরো ৮,৬৮৮ প্রজাতির অর্ধেকেরও বেশি প্রাণী ও উদ্ভিদ শিল্প, খামার ও আবাদি জমি তৈরীরর কারণে বাসস্থানের সংকটে ভুগছে। আর এসব ক্ষেত্রে গবাদিপশুর সংখ্যা বৃদ্ধি, খাদ্য কিংবা জ্বালানী উৎপাদনে বিভিন্ন পন্য সরবরাহের জন্য বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।

পিয়ার রিভিউড নেচারে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, তুলনামূলকভাবে বর্তমানে এসব প্রজাতির মাঝে শুধুমাত্র ১৯ ভাগই জলবায়ু পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীগণ এদের সংরক্ষণের জন্য প্রদত্ত তহবিলের ক্ষেত্রে বাস্তবতার নিরিখে কাজ করার ব্যপারে জোর দিতে বলেন।

industrial fume

অষ্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শন ম্যাক্সওয়েল বলেন, “জীববৈচিত্রের অস্তিত্ত্ব সংকটের মূল চাবিকাঠি হিসেবে আমি এর পুরনো শত্রু অতিউৎপাদন এবং কৃষিকাজের দিকেই আঙ্গুল তুলব।” তিনি অন্য এক বিবৃতিতে বলেন, “জলবায়ু বর্তনের চেয়ে এটাই বেশি হুমকিস্বরূপ। সংরক্ষণ আলোচনার বিষয়সূচিতে এর অবস্থান সামনের সারিতেই থাকবে।”

এদিকে, ৪৫ জন শীর্ষ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের একটি দল বড় বিড়াল থেকে বিশাল হাতি বনমানুষসহ বিশ্বের মৃতপায় সকল স্থলজ প্রাণীজগত রক্ষায় সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক আবেদন প্রকাশ করছেন। তাঁরা BioSciences লিখেছেন, “এরা এমনভাবেই বিলীন হচ্ছে ঠিক যেমন করে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করছেন এদের অস্তিত্ব পরিবেশগতভাবে কতটা অত্যাবশ্যকীয়। যদি না এদের সংরক্ষণের জন্য গঠিত তহবিলের অর্থায়ণ দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়, ২২শতকে এরা আর টিকে থাকবেনা।”

নেচারের গবেষণায় এটা স্বীকার করা হচ্ছে যে, বিশ্বব্যাপী উষ্ণতা বৃদ্ধি আগামী দশকে জীববৈচিত্রের উপর ভয়াবহ হুমকি হয়ে উঠবে। কিন্তু বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সমিতির জীববৈচিত্র বিশেষজ্ঞ ড. জেমস ওয়াটসন বলেন, “ধ্বংসাত্মক কাজে সব থেকে বড় হুমকি আসছে কৃষি এবং অতি উৎপাদন থেকে। যদি এই সমস্যার মোকাবেলা এখনি করা না হয় তবে অনেক প্রজাতি সময়ের সাথে হারিয়ে যাবে আর জলবায়ুর পরিবর্তন কথাটি পেছনে পড়ে যাবে।”

তিনি উল্লেখ করেন, পৃথিবী এখন ‘গণ বিলুপ্তির ঘটনায়’ প্রবেশ করেছে, যা গত এক বা দুই দশক আগের তুলনায় এখন এক থেকে দশ হাজার গুণ দ্রুত বিলুপ্তি ঘটছে।

অরিগন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাংসাশী বিশেষজ্ঞ ক্রিষ্টোফার ওলফ দি নেচারের বিশ্লেষনের সাথে একমত হয়ে বলেন, শিকার এবং আবাসস্থলের মারাত্মক ক্ষতি সাধন হওয়ার ফলে নিকটবর্তী সময়ের মধ্যেই বড় বিড়াল এবং নেকড়েগুলি বিপদের সম্মুখীন হবে।

তিনি আরও বলেন, “পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের উপর ক্রমাগত যে চাপ তৈরি হচ্ছে তার মাঝে একটি সাধারণ কারণ রয়েছে আর সেটা হলো মানুষ। সকল প্রজাতিই মানুষ সৃষ্ট কারণে বিপদের সম্মুখীন হয়ে চলছে।”

শফিকুল ইসলাম

Share.

মন্তব্য করুন