গবেষনাগারে তৈরি কর্নিয়া অন্ধত্ব দূর করবে

0

বিজ্ঞানীরা সফলতার সাথে গবেষণাগারের পেট্রিডিশে কর্ণিয়া কোষ উৎপাদন করেছেন। তাঁরা আশা করছেন এই প্রযুক্তি শিঘ্রই কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে অন্ধত্ব দূর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। অদ্যাবধি এই কোষগুলো কেবলমাত্র ভেড়ার চোখে ব্যবহার করা হয়েছে তবে গবেষকগণ আশা করছেন শিঘ্রই মানুষের চোখেও এই কোষগুলো একই ধরনের ফলাফল দেখাবে।

আমাদের চোখের স্বচ্ছতার জন্য কর্নিয়াল এন্ডোথেলিয়াল কোষ দায়ী। এরা কাজটি করে অতিরিক্ত তরল বর্জনর মাধ্যমে পাতলা হওয়ার মাধ্যমে। তবে বয়সের সাথে সাথে কোষগুলো ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং দৃষ্টি শক্তি ঝাপসা হতে থাকে। বর্তমানে এই সমস্যার একমাত্র সমাধান অন্য কোনো দাতা ব্যক্তির চোখের কর্ণিয়া কোষগুলো ঝাপসাদৃষ্টির মানুষটির চোখে প্রতিস্থাপন করা। এতকিছুর পরেও একজনের চোখের কোষ আরেকজনের চোখে সাযুজ্যপূর্ণ নাও হতে পারে এবং অপারেশন ব্যর্থ হতে পারে। তাই একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হচ্ছে রোগীর নিজের চোখের কোষ পুনরুৎপাদনের কোনো উপায় বের করা।

এই গবেষনার গবেষকগণ তাঁদের গবেষনাপত্রটি Advanced Healthcare Journal এ প্রকাশ করেছেন । এখানে তাঁরা বলেছেন কিভাবে সফলতার সাথে তাঁরা একটি অতিমাত্রায় পাতলা পলিইথিলিনের জলীয় পর্দা তৈরি করেছেন এবং এর উপর ভেড়ার কর্নিয়া কোষের বংশবিস্তার করেছেন। সাপ্তাখানেকের মধ্যে এই কোষগুলো একটি সুষম কোষীয় স্তর তৈরি করেছে। এই কোষীয় স্তরটির ধর্ম সম্পূর্নরূপে ভেড়ার প্রাকৃতিক কর্নিয়ার অনুরূপ।

এই কোষগুলো পরবর্তীত যেই ভেড়ার চোখ থেকে কর্নিয়া কোষ নেওয়া হয়েছিলো তার চোখে পুনঃপ্রতিস্থাপন করা হয় এবং ভেড়ার চোখের স্বচ্ছতার ৯৮% পুনরায় ফেরত পাওয়া যায়। এই কোষগুলোর গ্লুকোজের ভেতনযোগ্যতা প্রাকৃতিককোষগলোর মতোই, কাজেই কোষগুলো পুষ্টিজনিত কোনো সমস্যায় ভোগার সম্ভাবনাও নেই পরবর্তীতে।
তাছাড়া ২৮ দিন অপেক্ষা করার পরেও এই কৃত্রিম কোষস্তর থেকে কোনো ধরনের প্রদাহ বা বিষাক্ততা পাওয়া যায় নি, যার ফলে বোঝা যায় এটি শরীরের সাথে ভালোভাবে মানিয়ে নিয়েছে।

Share.

মন্তব্য করুন