মঙ্গলের বলয়!

0
167

শনির বলয়ের সাথে আমরা পরিচিত। অন্যান্য গ্যাসীয় গ্রহগুলোরও সুক্ষ বলয় রয়েছে তবে তা সহজে ধরা যায় না কিন্তু মঙ্গলের বলয়ের খবর এতদিন শোনা যায় নি।

অবশ্য মঙ্গলের সত্যিই কোনো বলয়ের অস্তিত্বই নেই। তাহলে মঙ্গলের বলয় নিয়ে আলোচনা আসছে কেন? এখন যদিও নেই তবে আগামী ২ থেকে ৪ কোটি বছরের মধ্যে মঙ্গলের চারদিকে বলয় তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। মঙ্গলের দুটি উপগ্রহ ডিমোস ও ফোবোস। এগুলো পৃথিবীর চাঁদের তুলনায় খুবই ছোট এবং মঙ্গলের আরো অনেক কাছ দিয়ে প্রদক্ষিন করে। এর মধ্যে ফোবোসের নিয়তি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এর কক্ষপথ ইতিমধ্যে অস্থিতিশীল হয়ে গেছে এবং প্রতি ১০০ বছরে ৬ ফুট করে মঙ্গলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই ধারায় চলতে থাকলে এটি মঙ্গলের বুকে আছড়ে পড়ার কথা। তবে সম্প্রতি একদল গবেষক ফোবোসের গঠন-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ করে এর বুকে প্রচুর ফাটল, ধূলো-বালী, গহ্বর ইত্যাদি আবিস্কার করেছেন (চিত্র-১)। এবং বিভিন্নভাবে হিসেব করে দেখা গেছে যে ফোবোস মঙ্গলের বুকে আছড়ে নয় বরং শূণ্যে থাকা অবস্থাতেই মঙ্গলের অভিকর্ষের দরুন ফাটল তৈরি হয়ে বিচূর্ণ হয়ে যাবে এবং উৎপন্ন ধুলো-বালি নূড়ি ইত্যাদি বলয় আকারে মঙ্গলের চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে থাকবে। এটিকে তখন নিচের চিত্রের মতো দেখা যাবে।

 

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া বার্কলির ছাত্র তুষার মিত্তাল বলেন, “ফোবোস ভেঙ্গে পড়ার জন্য যেসব বৈশিষ্ট্য দায়ী তার মধ্যে প্রধান হচ্ছে এ দৃঢ়তা। যদি ফোবোস টাইডাল চাপ মোকাবেলার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী না হয় তাহলে আমরা আশা করতে পারি এটি ভেঙ্গে পড়বে।”

মঙ্গলের দুটি চাঁদ ডিমোস ও ফোবোসের নামকরণ করা হয়েছে দেবতা আরেস এর সন্তানের নামে। এই দেবতা  রোমানদের যুদ্ধের দেবতা। অপেক্ষাকৃত বড় এবং ভিতরের দিকে অবস্থিত ফোবোস কেবল ২২ কিলোমিটার বা ১৪ মাইল চওড়া এবং প্রতিটি মঙ্গলীয় দিনে অতিদ্রুত ভ্রমন করে দুবার মঙ্গলকে প্রদক্ষীন করে। ক্ষুদ্র এই চাঁদটি ক্রমশঃ মঙ্গলের নিকটতর হচ্ছে- প্রতি শতাব্দীতে মঙ্গল একে ২ মিটার করে ভিতরের দিকে টেনে নিচ্ছে, যার ফলে এর আগের একটি গবেষনা অনুযায়ী ধারনা করা হচ্ছিলো এটি ৩ থেকে ৫ কোটি বছরের মধ্যে মঙ্গলের বুকে আছড়ে পড়বে।

কিন্তু ফোবোসের উপর মঙ্গলের আরোপিত ভৌত টান সিমুলেশন করার পর মিত্তাল এবং সহ-গবেষক বেনজামিন ব্ল্যাক ফোবোসের ভিন্ন ধরনের নিয়তি দেখতে পেয়েছেন। তাঁরা দেখেছেন এককভাবে মঙ্গলে বৃহদাকারে আছড়ে পড়ার বদলে মঙ্গলের মধ্যাকর্ষনের প্রভাবে এটি ভেঙ্গে টুকরো হয়ে যাবে।

-বিজ্ঞান পত্রিকা ডেস্ক

 

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.