সূর্যের সবচেয়ে কাছে পৌঁছবে সোলার প্রোব প্লাস

3

‘সোলার প্রোব প্লাস’ নামে নাসা সূর্যের উদ্দেশ্যে একটি মহাকাশযান পাঠাবে। এটি পাঠানো হলে খুব শীঘ্রই আমরা সূর্যের খুব কাছাকাছি অবস্থানে আরোহণ করতে পারবো। এতটাই কাছে যে এর আগে কোনো মহাকাশযান সূর্যের এত কাছে পৌঁছায়নি। নাসার সোলার প্রোব প্লাস প্রজেক্টটি সম্প্রতি অনুমোদন লাভ করেছে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০১৮ সালের গ্রীষ্মেই এই যানটিকে উৎক্ষেপণ করা হবে। সূর্যের উদ্দেশ্যে কোনো যান প্রেরণ করলে তা খুব বেশি কাছে যেতে পারে না। বেশি কাছে গেলে সূর্যের তাপের প্রভাবে যন্ত্রের কার্যকরীতা নষ্ট হয়ে যায় কিংবা সূর্যের তাপে গলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে মহাকাশযান প্রেরণ করে তথ্য সংগ্রহ করা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং। এই চ্যালেঞ্জকে সামনে রেখে নাসা প্রেরণ করছে সোলার প্রোব প্লাস। এটি সূর্যপৃষ্ঠ থেকে সর্বনিম্ন ৬ মিলিয়ন কিলোমিটার দূরে থেকে প্রদক্ষিণ করবে। এর আগেও সূর্যের উদ্দেশ্যে মহাকাশযান প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনো যানই এর আগে সূর্যের এত কাছে পৌঁছায়নি।

প্ল্যান হিসেবে এর দ্বারা ২৪ টি আবর্তন সম্পন্ন করা হবে এবং সূর্যের দিকে যাবার পথে শুক্র গ্রহের কাছ দিয়ে ৭ টি ফ্লাইবাই মিশন সম্পন্ন করা হবে।

এই প্রোবটি সূর্যের চুম্বকক্ষেত্র, সৌরঝড় ও সূর্যের চারপাশে বিরাজমান প্লাজমা ক্ষেত্র সম্পর্কে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বহন করে নিয়ে যাবে। এই প্রোবের দেয়া তথ্যগুলো সম্মিলিতভাবে খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে কাজ করবে। বিশ্বজগতের পরিবেশ, আবহাওয়া ও গ্রহ নক্ষত্রের আচার আচরণ বুঝতে এই তথ্য অনেক কাজে আসবে।

পাওয়া যেতে পারে সূর্য সম্পর্কে অজানা অনেক তথ্য।

পাওয়া যেতে পারে সূর্য সম্পর্কে অজানা অনেক তথ্য।

প্রোবটিকে মেরিল্যান্ডের Johns Hopkins Applied Physics Laboratory-তে নির্মাণ করা হয়েছিল। এটিকে এখন উৎক্ষেপণস্থলে সরিয়ে আনা হয়েছে এবং এর ত্রুটি বিচ্যুতি ও সীমাবদ্ধতা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।

সূর্যপৃষ্ঠের উপরে অত্যন্ত উত্তপ্ত এলাকা প্রোবটির জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারতো। সূর্য থেকে আগত তাপ ও অরক্ষিত বিকিরণ প্রোবটিকে ক্ষতি করতে পারে। এমন অবধারিত বৈরি পরিবেশের জন্য বিজ্ঞানীরা এতে একটি ব্যবস্থা রেখে দিয়েছেন। সাড়ে ৪ ইঞ্চি (১১.৫ সেন্টিমিটার) বেধের তাপ রোধক থাকবে এটিকে ঘিরে।  তাপরোধকের উপস্থিতিতে এটি কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও প্রবেশ করতে পারবে। সূর্যের গরম তাপমাত্রায়ও এটি টিকে থাকতে পারবে। ধারণা করা হচ্ছে এটি ১৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে পারবে।

সোলার প্রোব প্লাসকে যদি পরিকল্পনামতো সূর্যের কাছাকাছি পাঠানো যায় তাহলে এটি আরো একটি দিক থেকে রেকর্ড করে নিবে। সূর্যের দিকে আবর্তন করার সময় এর বেগ হবে সেকেন্ডে ২০০ কিলোমিটার। এত পরিমাণ দ্রুতগতিতে চললে এটিই হবে এখন পর্যন্ত মনুষ্য নির্মিত সবচেয়ে বেশি গতিতে চলা যন্ত্র বা যান।

সোলার প্রোব প্লাসের প্রজেক্ট ম্যানেজার Andy Driesman এক বিবৃতিতে বলেন- “এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারা আমাদের গবেষণা টিমের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু। আমরা এমন একটি যানের ডিজাইন ও উন্নয়ন করতে পেরেছি যা ব্রহ্মাণ্ড সম্পর্কে অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে এবং সেই গবেষণার জন্য তথ্য পৃথিবীতে পাঠিয়ে দিতে পারবে।  [iflscience অবলম্বনে]

– সিরাজাম মুনির শ্রাবণ

Share.

3 Comments

  1. Moinul Hasan on

    ১. জুনো বর্তমানে বৃহস্পতিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে প্রতি সাড়ে ৫৩ দিনে একবার করে প্রদক্ষিণ করছে। এই অবস্থায় এর গতিবেগ অবিশ্বাস্য রকমে বেশি। এই কক্ষপথে এর প্রাথমিক গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার মাইল। প্রতি সেকেন্ডে ২ হাজার ৭৫০ মাইল!

    ২. সূর্যের দিকে আবর্তন করার সোলার প্রোবটির বেগ হবে সেকেন্ডে ২০০ কিলোমিটার। এত পরিমাণ দ্রুতগতিতে চললে এটিই হবে এখন পর্যন্ত মনুষ্য নির্মিত সবচেয়ে বেশি গতিতে চলা যন্ত্র বা যান।

    # কোনটি সঠিক?

    • আসলে জুনোর পোস্টে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল রয়ে গিয়েছিল। সূর্যের প্রোবটি সবচেয়ে বেশি গতিশীল হবে এটাই সঠিক। অন্যদিকে মহাকাশযান জুনোর বেগ ঘন্টায় ১ লক্ষ ৬৫ হাজার মাইল এটাও সঠিক। সমস্যা হয়েছে ঘণ্টা থেকে মিনিটে বা সেকেন্ডে কনভার্ট করার সময়। জুনোর গতিবেগ ছিল মিনিটে ২ হাজার ৭৫০ মাইল এবং সেকেন্ডে ৪৫.৮৩ মাইল। কিন্তু ভুলক্রমে মিনিটের স্থলে সেকেন্ড হয়ে যায়। ঘণ্টার গতিবেগকে ৬০ দিয়ে ভাগ করে এবং পরে একে আবারো ৬০ দিয়ে ভাগ করলে ভুলটা ধরা পড়ে। অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দুঃখিত।

মন্তব্য করুন