সর্বশেষ সার্ন (CERN) এর গবেষণা বলছে কণা পদার্থবিজ্ঞানে বড় ধরনের ত্রুটি রয়েছে

0

গৃহীত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বগুলো সর্বদাই ঝুঁকির মুখে থাকে, এবং কখনো কখনো সেগুলো অকার্যকারও হয়ে যায়। এবং সার্নের সাম্প্রতিক গবেষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে আমরা হয়তোবা এক নতুন পদার্থ বিজ্ঞানের মুখোমুখি হওয়ার দ্বারপ্রান্তে।

সার্নের উপাত্ত বি মেসন (B meson) নামে একটি বিশেষ কণার প্রতি নজর দেয়। কণা পদার্থবিদ্যার বর্তমান তত্ত্ব, স্ট্যান্ডার্ড মডেলের অনুমান অনুযায়ী বি মেসনের যেমন কম্পাঙ্ক এবং ক্ষয়ের কোণটি পাওয়ার কথা, নতুন পরীক্ষায় তেমনটি পাওয়া যায় নি।

গবেষণাপত্রটির একজন লেখক, অধ্যাপক মারিউজ উইটারের মতে, “বিষয়টিকে সিনেমার সাথে তুলনা করলে এতদিন আমরা কেবল সিনেমাটির কিছু ফাঁস হয়ে যাওয়া দৃশ্যই দেখতে পেয়েছিলাম, কিন্তু LHC (Large Hadron Collider) অবশেষে প্রথমবারের মতো একটি প্রকৃত ট্রেইলার উন্মোচন করেছে।”

স্ট্যান্ডার্ন্ড মডেল যাবতীয় পরমাণুর অভ্যন্তরীন কণিকাগুলোকে একটি তত্ত্ব অনুযায়ী সাজিয়েছিলো। এই সজ্জ্বায় ছয়টি কোয়ার্ক (আপ, ডাউন, চার্ম, স্ট্রেঞ্জ, টপ এবং বটম), ছয়টি লেপটন (ইলেক্ট্রন, মিউয়ন, টাউ এবং এদের সংশ্লিষ্ট নিউট্রিনোসমূহ), বলসমূহের বহনকারী কনিকাসমূহ (গ্লুয়ন, ফোটন, Z, W বোসন) এবং হিগস বোসন। বি মেসন কণিকাটি ডাউন কোয়ার্ক এবং বটম এন্টিকোয়ার্ক দিয়ে তৈরি এবং এটি উৎপন্ন হওয়ার পর ০.০০১৫ ন্যানোসেকেন্ড টিকে থাকে।

বিম্যাসন ভেঙ্গে যাওয়ার সময় বিভিন্ন কণিকাগুচ্ছের সেটে পরিণত হতে পারে। স্ট্যান্ডার্ড মডেল অনুযায়ী এই কণিকাগুলোর নির্দিষ্ট শক্তি থাকবে এবং নির্দিষ্ট কোণে বেঁকে যাবে। অথচ  বর্তমান পরীক্ষায় এমন একধরনের ভাঙ্গন দেখা গেছে যা স্ট্যান্ডার্ড মডেলের অনুমিত নয়।

হুইটেক বলেন, “এখন পর্যন্ত সকল মাপামাপিতেই স্ট্যান্ডার্ড মডলের অনুমানের সাথে মিল পাওয়া গেছে। অথচ আমরা জানি স্ট্যান্ডার্ড মডেল এই মহাবিশ্বে সবগুলো দিক ব্যাখ্যা করতে পারে না। কেমন করে মহাবিশ্বে পদার্থসমূহ প্রতিপদার্থের তুলনায় প্রবল হলো? ডার্ক ম্যাটার কি? এই প্রশ্নগুলো এখনো উত্তরবিহীন রয়ে গেছে।  তার উপর আমরা প্রতিদিনই যে মহাকর্ষ বলটি অনুভব করছি তা স্ট্যান্ডার্ড মডেলে অন্তর্ভুক্তই নয়।”

এই গবেষণাটি যদিও Journal of High Energy Physics এ প্রকাশিত হয়েছে এবং অতিঅবশ্যই তাৎপর্যপূর্ণ, তথাপি এই সনাক্তকরণ এখনো কোনো আবিষ্কার নয়। যন্ত্রে যে সংকেত ধরা পড়েছে তার কনফিডেন্স মাত্রা ৩.৪ সিগমা। পদার্থবিজ্ঞানীরা একটি আবিষ্কারকে তখনই গ্রহণ করেন যখন এর কনফিডেন্স মাত্রা ৫ অতিক্রম করে, এর অর্থ হলো এই আবিষ্কারটি ভুয়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে প্রতি ৩.৫ মিলিয়নের মধ্যে ১ বারের চেয়ে কম।

সার্ন পুনরায় নতুন করে উচ্চ শক্তির সংঘর্ষ ঘটাতে শুরু করেছে। আশা করা যায় এর মাধ্যমে আমরা স্ট্যান্ডার্ড মডেলের বাইরে গিয়ে নতুন করে বিশ্বের দিকে তাকানোর সাহস করার মতো কিছু অর্জন করতে পারব।

বিজ্ঞানপত্রিকা ডেস্ক

Share.

মন্তব্য করুন

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.